বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও চাপের মধ্যে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতি এবং স্যারের পদত্যাগের গুঞ্জন আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনার জন্যই আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”
অধ্যাপক ইউনূস নাকি নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের অসন্তুষ্টি ও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি যদি কাজ করতে না পারি… যে জায়গা থেকে তোমরা আমাকে আনছিলে, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের লক্ষ্যে — কিন্তু যেভাবে আন্দোলন হচ্ছে, যেভাবে আমাকে জিম্মি করা হচ্ছে, এতে তো কাজ চালানো সম্ভব না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো একটি ‘কমন জায়গা’ বা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না, যা সরকার পরিচালনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাহিদ ইসলাম অধ্যাপক ইউনূসকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে আশাবাদী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আশার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন অধ্যাপক ইউনূস। তাঁর এই মুহূর্তে সরে যাওয়া পুরো উদ্যোগকে ভেঙে ফেলতে পারে।”
অধ্যাপক ইউনূসের এই বক্তব্য ও অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আস্থার ভিত্তিতে তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটি নিরপেক্ষ, সংস্কারমুখী এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ধারাবাহিক আন্দোলন, প্রশাসনের ওপর চাপ এবং সামাজিক বিভাজনের কারণে সরকারের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ মুহূর্তে অধ্যাপক ইউনূসের সম্ভাব্য পদত্যাগ শুধু সরকারের ভবিষ্যৎ নয়, বরং সমগ্র দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকেও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।