চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করে গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কারাবন্দি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বাকলিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত বখতেয়ার হোসেন মানিকের মা ফিরোজা বেগম। মামলায় মোট ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৩০ মার্চ গভীর রাতে বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় একাধিক মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। প্রাইভেট কারটি দ্রুতগতিতে পালিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোড হয়ে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় পৌঁছালে থেমে যায়। তখন সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া গুলিবর্ষণ চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। এ ঘটনায় আহত হন রবিন ও হৃদয়।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী তামান্না শারমিনকে। এছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— মোহাম্মদ হাসান (৩৬), মোবারক হোসেন ইমন (২২), খোরশেদ (৪৫), রায়হান (৩৫) ও বোরহান (২৭)।
গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তার অনুসারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গুলিতে আহত মো. রবিন জানিয়েছেন, প্রাইভেট কারের চালক ছিলেন নিহত মানিক, আর কারের মালিক ছিলেন নিহত আব্দুল্লাহ। এছাড়া কারের সামনের সিটে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সরোয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন। পেছনের সিটে ছিলেন আব্দুল্লাহ, রবিন, হৃদয় ও ইমন।
রবিনের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার হোসেন বাবলা পুলিশের কাছে ছোট সাজ্জাদের অবস্থান ফাঁস করে দেন বলে সাজ্জাদের অনুসারীদের সন্দেহ ছিল। এজন্যই তাকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়। তবে সরোয়ার এ হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান।
প্রসঙ্গত, ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। এর আগে এ বিরোধের জেরে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “নিহত মানিকের মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনা অনুসারে অন্যান্য আসামিরা এই হামলা চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মামলার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হবে।”