জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা এবং দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। তিনি বলেন, “সরকারের উচিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে দলটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা। আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি এই দাবি জানাচ্ছি।”
সোমবার নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট তিনটি এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন।”
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিজমের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরেকটি স্বৈরাচারী শাসন দেখার আশঙ্কা থেকেই যাবে। জনগণ পরিবর্তন চায়, পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরতে চায় না। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এখনো পুরনো বন্দোবস্তের সমর্থনে কাজ করছে, সংস্কারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদাররা সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।”
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি বিভিন্ন মহল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। কোনোভাবেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না। গত ১৫ বছরের গুম, খুন ও দখলদারিত্বের পর আওয়ামী লীগকে আর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের প্রত্যাশা ও ভালোবাসাকে ভিত্তি করে নতুন রাজনীতি গড়ে তুলতে চায়। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধান করব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা গ্রহণ করব। তবে সমাজে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের রাজনীতি রুখে দিয়ে মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলী, সদস্য আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।