ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের নির্বাচন ৭৩ থেকে ২৩

আফসানা আফরিন। সিটিজি পোস্ট
নভেম্বর ১৫, ২০২৩ ১২:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ যেখানে আওয়ামী লীগ ২৯৩ টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ প্রথম ১০ মাসের মধ্যে দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেয়।

অন্যদিকে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় জিয়াউর রহমান এর আমলে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, যেখানে বিএনপি ২০৭ টি আসনে জয়লাভ করে। দেশে যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, তার ভিত বিএনপিই রচনা করেছে বলে দাবি করেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও বলেছিলেন – ‘আমরা গর্বিত যে আজকের বাংলাদেশ শহীদ জিয়ার বপনকৃত উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সফলতার ফসল।’ দেশে তৃতীয় এবং চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি দেশের ক্ষমতা দখল করে এবং সরকার গঠন করে। এই দল সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন -‘জাতীয় পার্টির উন্নয়ন ও সুশাসনের কথা জাতি ও নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। এছাড়াও তিনি বলেছিলেন তার আমলেই দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন ছিল। জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮১ সালে ক্ষমতায় এসে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। বাংলাদেশে গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নয় বছরের শাসনের পতন হয় এবং বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। সে সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শাহাবুদ্দিন আহমদের অধীনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।
ঠিক এভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশে সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন গুলো অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুধু তাই নয় প্রতিটি সরকার ব্যবস্থাই ছিল দেশের জন্য কল্যাণকর। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা জয়লাভ করে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে সরকার গঠন করে৷ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘দিন বদলের সনদ’ শিরোনামে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগের স্বপ্ন ছিল রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের। এরপর ২০১৪ সালের সরকার গঠন করে ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ইশতেহার দেয় দলটি । গ্রহণ করে ১০টি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প। ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইশতেহার প্রণয়ন করে, ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং ২১০০ সালে ‘নিরাপদ ব-দ্বীপ’ প্রণয়নের রূপরেখা প্রদান করে। ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ইশতেহার প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে দলটি। এবার লক্ষ্য- স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ মহাকাশে উৎক্ষেপন করেছে কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই-১। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে স্যাটেলাই বিশ্বে। এমনকি প্রস্তুতি চলছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপনেরও। সরকার প্রধান শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার ফলশ্রুতিতেই এ সব কিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু,কর্ণফুলী টানেল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর ভাবে প্রভাব ফেলেছে। দেশ এখন অর্থনৈতিক ভাবে অনেক এগিয়ে। সামনের নির্বাচন কে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে দুটি কাজ নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে একটি কাজ হলো, নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া। আর আরেকটি কাজ হলো, বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী দলের আন্দোলনের নামে চোরাগোপ্তা হামলা মোকাবিলা এবং নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি এখন অনেকটা সংকটাপন্ন। দেশের মানুষের মধ্যে এক প্রকার ভয়ের কাজ করছে। কি হতে যাচ্ছে ২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতে তাই দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশের মানুষ। তবে যা কিছুই হোক না কেনো জণগণ চায় একটু সুষ্ঠু নির্বাচন।

আফসানা আফরিন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়