ঢাকাশুক্রবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কোন পথে দেশের রাজনীতি?

মুহাম্মদ ইশাত মান্নান | সিটিজি পোস্ট
অক্টোবর ২৯, ২০২৩ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রায় ১০ বছর পর দেশের রাজনীতিতে আবারও হরতাল ফিরে এলো। এ অবস্থায় আবারও সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

২৮ অক্টোবর হয়ে যাওয়া বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কাকরাইল, পুরানা পল্টন, আরামবাগ, দৈনিক বাংলা মোড়, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর এলাকা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য ও যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বহু নেতাকর্মী ও পুলিশের সদস্য।

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের নির্বাচনকালীন সরকারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও বিরোধী দলগুলো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল ও দেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরপেক্ষ সরকারের প্রশ্নে কোনো সংলাপ হবে না। ফলে সংলাপ বা আলোচনার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলোর অনড় অবস্থানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘাত ও সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তাই আবারও তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংঘর্ষ নতুন কোনো ঘটনা নয়। বরং ব্যাপক আকারে সংঘর্ষ হতে আমরা দেখেছি। সংঘর্ষ সব সময় হয়েছে; কিন্তু জনগণের বড় সমর্থন ছাড়া পরিবর্তন কখনো হয়নি। তবে শুধু ঢাকার জনগণ নয়, পুরো বাংলাদেশের জনগণ যদি পরিবর্তন চায় তাহলে সমাধান হতে পারে। তবে এ রকম সংঘর্ষ তো থামানো সম্ভব না। কারণ বড় বড় দলের পরস্পরের প্রতি আস্থা নেই এবং আস্থা যেন তৈরি হয় এমন কাজও কেউ করছে না। তাই এ ধরনের সংঘর্ষ হবেই এবং এটা দুঃখজনক।

নির্বাচনের তফসিল যখন ঘোষণা করা হবে, তখন দেখা দরকার বিএনপি নির্বাচনে আসবে কিনা এবং কিভাবে সেটাকে মোকাবিলা করবে। আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে সংঘর্ষ এখন কম। তবে এটা বাড়তে পারে। এখন পর্যন্ত তারা সংলাপের পর্যায়ে যায়নি। কারণ সংলাপ যে হবে একদল চাচ্ছে সংবিধানের মাধ্যমে নির্বাচন, আরেক দল বলছে সরকারের পদত্যাগ, কোনোভাবেই তারা সংলাপের অবস্থানই নেই। যদি নির্বাচনে যেত, তা হলে হয়তো এক ধরনের সংলাপ হতে পারে। আর যদি নির্বাচনে না যায়, তা হলে দেখা দরকার তারা কী ধরনের কর্মসূচি নেবে এবং সেটার পেছনে জনগণ আছে কিনা। তবে জনগণ বলতে ত্রিশ-চল্লিশ হাজার জনগণ নয়, সমগ্র বাংলাদেশের জনগণ। তখন বোঝা যাবে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, এখন পরিস্থিতি যেটা আমাদের রাজনীতিবীদরা রাজপথে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। তবে এটা রাজপথে সমাধানের সমস্যা নয়। রাজপথে কোনো সমস্যার সমাধান তো হয়ই না, বরং আরও জটিল হয়। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা, যে সহিংসতা শুরু হলো এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দোষারোপ করবে। কিন্তু তার মাশুল দিতে হবে জনগণকে। এটা আমাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফল সবাইকে ভোগ করতে হবে। এতে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই রাজনীতিবিদদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, আলোচনার টেবিলে বসার। বসে এই সমস্যার জন্য সংলাপ, সমঝোতা এবং সমাধানে পৌঁছাক। এটাই এখন পথ। সংলাপই একমাত্র পথ।

এক্ষেত্রে আমরা কিন্তু সহজেই একটা কথা বুঝছি সরকারকেই সংলাপের উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপির দাবির বিপরীতে সরকার দুর্বল অবস্থানে। বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর আগেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে পঞ্চদশ সংশোধনী যেটা পাস হয়েছে, সেটা অসাংবিধানিক এবং তারা নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে একটি কৌশলে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে যেটা ঘটেছে ১৯৯৪ সালে যখন মাগুরা উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তোলা হয়, তখন কিন্তু সরকারই কমনওয়েলথের মহাসচিবকে অনুরোধ করেছিলেন প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য। পরবর্তী সময়ে তার মধ্যস্থতায় সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল; কিন্ত সফল হয়নি। তেমনি ২০১৩ সালে জাতিসংঘ প্রতিনিধি প্রেরণ করেছিল। এখন সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে আমরা খাদে পড়ে যেতে পারি।