ঢাকাশুক্রবার, ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আর্জেন্টিনাকে হারানোয় সৌদিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৪:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাওয়া জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে আজ বুধবার সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার। আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসিদের বিপক্ষে জাতীয় দলের জয় উদযাপনের জন্য সৌদি ক্রাউন প্রিন্স যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি পরামর্শ অনুমোদন করেছেন দেশটির বাদশাহ সালমান। বিজয় উদযাপন করতে বুধবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফুটবলারদের উপহার দেয়া হবে দামি গাড়িও। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সকল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হবে। অবশ্য ছুটি ঘোষণার আগেই সৌদি আরবের রাস্তায় নেমে এসেছেন সমর্থকরা। সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা হাতে এবং জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নেচেগেয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন তারা।

এ নিয়ে ষষ্ঠবার হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো আর্জেন্টিনা এই প্রথম নয় এই নিয়ে ষষ্ঠবারের মত হার দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু করলো আর্জেন্টিনা। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপে রানার্স হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

১৯৩৪ দ্বিতীয় আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় তারা। ওই আসরে প্রথম রাউন্ড থেকে বিশ্বকাপ শেষ হয় আর্জেন্টিনার। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপেও নিজেদের প্রথম খেলায় পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

শেষ পর্যন্ত আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। ১৯৭৪ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পোল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হার বরণ করেছিলো আর্জেন্টিনা। অবশ্য আসরে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত যেতে পারে তারা। ১৯৭৮ আসরে প্রথম বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছিলো আর্জেন্টিনাকে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ওই আসর শেষ করে তারা। ১৯৮৬ সালে দিয়েগো মারাদোনার হাত ধরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-০ গোলে হারতে হয় আর্জেন্টিনাকে। হার দিয়ে শুরু হলেও আসরের ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। কিন্তু পশ্চিম জার্মানির কাছে ফাইনালে হেরে যায় তারা।

দু’ম্যাচে বাতিল ৫ গোল, কেন এত অফসাইডের ফাঁদে ফুটবলাররা

১৩ মিনিটের মধ্যে তিন বার সৌদি আরবের গোলে বল ঢুকিয়েছিলেন লিওনেল মেসিরা। কিন্তু তিন বারই বাতিল হয়ে গিয়েছে সেই গোল। কারণ, অফসাইডের ফাঁদে পা দিয়েছেন স্ট্রাইকাররা। একই ছবি ডেনমার্ক বনাম তিউনিশিয়া ম্যাচে। দু’দলেরই একটি করে গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডে। কেন বার বার অফসাইডের ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন ফুটবলাররা? তাদের ভুল? নাকি প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে?

এ বারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ১০টি অফসাইড করেছে আর্জেন্টিনা। চার বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে গোটা প্রতিযোগিতায় ৬ বার অফসাইডের জালে জড়িয়েছিলেন মেসিরা। অর্থাৎ, শুধু গোলের ক্ষেত্রে নয়, ম্যাচে সাধারণ অফসাইডও বেশি চোখে পড়ছে। তার একটা বড় কারণ প্রযুক্তির উন্নতি। ফিফা জানিয়েছে, কাতার বিশ্বকাপে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ কম দিতে চান তারা। তার জন্য সব রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

মেসিদের বিরুদ্ধে নামার আগে সৌদি ফুটবলারদের কাঁদিয়ে দেন কোচ

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা হারাতে পারেনি তাদের। উল্টে ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে সৌদি আরব। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার মতো দলকে হারিয়ে গ্রুপের অঙ্ক ওলট পালট করে দিয়েছে সৌদি। এই জয়ের পিছনে অবশ্য একটা গল্প রয়েছে। কান্নার গল্প। চোখের জলে বাজিমাত করেছেন আলশেহরি, আলদাওশারিরা।

ম্যাচ শেষে সৌদির মিডফিল্ডার আবদুল্লা আল-মালকি জানিয়েছেন, খেলা শুরুর আগে ও বিরতিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করেন দলের কোচ হার্ভে রেনার্ড। তিনি বলেছেন, খেলা শুরুর আগে কোচ আমাদের সবাইকে ডেকে বলেছিলেন, দেশের জন্য নিজেদের ২০০ শতাংশ দিতে। কীভাবে আমরা এতটা রাস্তা এসেছি সেই গল্প আমাদের বলেন কোচ। সেই সব কথা শুনতে শুনতে কেঁদে ফেলেছিলাম আমরা। বাড়তি তাগিদ পেয়েছিলাম।

বিশ্বকাপের প্রথম ৫ ম্যাচে ইনজুরি টাইম ৮৩ মিনিট

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে ইরান যখন দ্বিতীয় গোল করে তখন ঘড়িতে খেলার সময় ১০২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। সেনেগালের বিরুদ্ধে আবার নেদারল্যান্ডসের দ্বিতীয় গোল আসে ৯৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। হিসাব বলছে, প্রথম পাঁচ ম্যাচে ৮৩ মিনিট ইনজুরি টাইম (প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শেষে যে সময় অতিরিক্ত যোগ করা হয়) দেওয়া হয়েছে। যা প্রায় একটি গোটা ফুটবল ম্যাচের সমান। কিন্তু কেন এতক্ষণ খেলা হচ্ছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে?

বেশিক্ষণ খেলানোর প্রধান কারণ ফিফার নিয়ম বদল। ফুটবলাররা যাতে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেন, যাতে বেশি সময় নষ্ট না হয় তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফিফার রেফারিদের কমিটির প্রধান পিয়েরলুইগি কলিনা বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে বলেছিলেন, আমরা চাই না যে ৪২, ৪৩, ৪৪ মিনিটে একটি অর্ধ শেষ হয়ে যাক। তাই পরিবর্তে ফুটবলার মাঠে নামা, পেনাল্টি, গোলের পর উল্লাস, মেডিক্যাল কারণে ও ভিএআর প্রযুক্তির ফলে যে সময় নষ্ট হয় তা মেটানো হবে।

এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সব থেকে বেশি অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ড বনাম ইরান ম্যাচে। প্রথমার্ধে ১৪ ও দ্বিতীয়ার্ধে ১৩ অর্থাৎ মোট ২৭ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

আর্জেন্টিনা বনাম সৌদি আরব ম্যাচে দুই অর্ধ মিলিয়ে মোট ১৯ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথমার্ধে ৫ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ৮ মিনিট দেওয়া হলেও সেই অতিরিক্ত সময় গড়ায় ১৪ মিনিটে।

ফুটবলাররা যাতে দুই অর্ধ মিলিয়ে পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারেন তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। সেই কারণেই এত বেশিক্ষণ অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে এ বারের ফুটবল বিশ্বকাপে।