ঢাকাবৃহস্পতিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সপ্তাহে দুদিন অফিস করেন প্রকল্প পরিচালক

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
নভেম্বর ১৪, ২০২২ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নগরের সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গৃহীত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) একটি প্রকল্পের পরিচালক সপ্তাহে মাত্র দুদিন (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) অফিস করেন। এতে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজে গতি আসছে না। শঙ্কা তৈরি হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করা নিয়েও। এমন কি যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে তা ‘ব্যাহত’ হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দাপ্তরিকভাবে অবহিত করেছে চসিক। সপ্তাহে দুদিন অফিস করা ওই প্রকল্প পরিচালক হচ্ছেন মো. গোলাম ইয়াজদানী। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাকে গত ১৪ আগস্ট ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এয়ারপোর্ট রোডসহ বিভিন্ন সড়কসমূহ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অফিস আদেশ জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে ২০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে আরেকটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে গোলাম ইয়াজদানীকে সপ্তাহে দুদিন চসিকে কাজ করতে বলা হয়। তখন বিষয়টি আমলে নেয়নি চসিক। এখন
কাজে গতি কমায় গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রালয়কে তা দাপ্তরিকভাবে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রকল্প পরিচালক বুধবার ও বৃহস্পতিবার অফিস করেন। যেহেতু এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প তাই প্রকল্পের পরিচালক বেশি থাকলে আমাদের জন্যও সুবিধা বেশি। পুরো সপ্তাহ এখানে থাকলে কাজেও গতি আসবে। তাই তাকে যেন সার্বক্ষণিক চসিকে রাখা হয় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখতে নির্দেশনা দিয়েছি।

প্রকল্পের সুফল পাওয়া নিয়ে শঙ্কা : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দেয়া চসিকের দাপ্তরিক পত্রে প্রকল্প পরিচালক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন না করলে কয়েকটি শঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যেন ইয়াজদানীকে সার্বক্ষণিক চসিকের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনের আদেশ জারি করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে অনুরোধ করা হয়।

চসিকের প্রধান নির্র্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম স্বাক্ষরিত পত্রটিতে বলা হয়, সিটি কর্পোরেশনের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বৃহৎ প্রকল্পটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি যথাসময়ে বাস্তবায়নের সাথে আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সরকারের ভাবমূর্তির বিষয় জড়িত রয়েছে। কারণ এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রামের নান্দনিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এ ধরনের প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন। প্রকল্প পরিচালক যদি চসিকে সপ্তাহে শুধুমাত্র দুদিন দায়িত্ব পালন করেন তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হবে। সিটি মেয়র এ প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের যে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছেন তা ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বৃহৎ প্রকল্পটির সুফল হতে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম বঞ্চিত হবে।

 

চসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় বিমানবন্দর সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ৬০০ মিটার ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। ওভারপাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৮৪ কোটি টাকা। এছাড়া ২ হাজার ১০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় নগরের ৭৬৯ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন, ৫৬ কোটি টাকায় ২২৪ মিটার করে ১৪টি ব্রিজ, ৫৮ কোটি টাকায় ১৫২০ মিটার করে ৩৮টি ফুট ওভারব্রিজ, ১৪ কোটি টাকায় ৮৭ মিটার করে ২২টি কালভার্ট নির্মাণ, ১২ কোটি টাকায় ১০টি গোল চত্বরের উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ১৫টি নির্মাণ যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হবে।
জানা গেছে, ম্যাচিং ফান্ডের শর্ত ছাড়াই চসিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পটি গত ৪ জানুয়ারি ২ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকায় অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটিতে সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার। জিও অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২২ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
শুরুতে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তার স্বাক্ষরে গত ১২ মে দরপত্রও আহ্বান করা হয়। পরে ১৪ জুলাই চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়্যবকে প্রকল্প পরিচালক করা হয়। তিনিও গত ৭ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করেন। এর কয়েকদিন পর ১১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে প্রকল্প পরিচালক থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।