ঢাকাশুক্রবার, ১৭ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছয় ঘণ্টা অন্ধকারে অর্ধেক দেশ

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
অক্টোবর ৫, ২০২২ ১২:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ছয় ঘণ্টা ঢাকাসহ চার বিভাগ বিদ্যুত্হীন ছিল। দুপুর ২টা ৫ মিনিটে বিপর্যয়ের শুরু। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রাথমিকভাবে কিছু এলাকায় সরবরাহ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত রাত ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়

বাকি এলাকা তখনো অন্ধকারে ছিল। তবে এই সময়ে রাজধানীর ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানায় ডিপিডিসি ও ডেসকো। আর ঢাকার বাইরের তিন বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ ছিল না।

বিদ্যুতের অভাবে প্রথমেই সংকটে পড়ে হাসপাতালগুলো। ব্যাহত হয় চিকিৎসাসেবা। বন্ধ হয়ে যায় জরুরি অস্ত্রোপচার। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসার লাইনগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ে। হাসপাতাল, অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি—সব জায়গায় পানির সংকট দেখা দেয়। তেলের অভাবে জেনারেটর বন্ধ হয়ে অন্ধকারে চলে যায় অফিস, কলকারখানা ও বিপণিবিতান। জেনারেটর সচল করতে লোকজন ড্রাম, জেরিক্যান নিয়ে ছোটে পেট্রল পাম্পে। সেখানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায় গ্রাহকের।

দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লার বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোথায়, কী কারণে গ্রিড বিপর্যয় হয়েছে গত রাত পর্যন্ত তার তথ্য দিতে পারেনি পিজিসিবি। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, নরসিংদীর ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি গ্রিড সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সমন্বয় করার সময় এই বিপর্যয় ঘটে।

বিদ্যুৎহীন সময় যত গড়াতে থাকে ধীরে ধীরে ব্যাহত হয় মোবাইল ফোন সেবা, বেড়ে যায় কলড্রপ। ইন্টারনেটে সমস্যার কারণে অনলাইন ব্যাংকিং সেবাও বিঘ্নিত হয়। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে আসা গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ে। কারাগারগুলোতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, রাতের মধ্যেই সারা দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তারা আশা করছে।

পানিসংকট

বিদ্যুৎ না থাকায় বিকেল সাড়ে ৩টার পর সবার জন্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। আজিমপুরের ইরাকি মাঠের পাশে বাসা নুসরাত আজহারের। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুর আড়াইটার দিকেই বাসার পানি শেষ হয়ে যায়। পরে ওয়াসার বুথ থেকে আনা কয়েক লিটার পানি দিয়ে গোসল সারতে হয়। এরপর আবার বুথে পানির জন্য গিয়ে আর পাওয়া যায়নি। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে পানির সংকট—সব মিলিয়ে কঠিন এক অভিজ্ঞতা। ’

ঢাকা ওয়াসার কার্ড ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী রামেশ্বর দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আমাদের ২৮৫টি বুথেই পানি ছিল। বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আমরা জেনারেটর দিয়ে ১০০টির মতো বুথ সচল রাখতে পেরেছি। কিন্তু ৫টার পর আর কোনো বুথ থেকেই গ্রাহকদের পানি দিতে পারিনি। পানি থাকলেও মেশিনারিজ দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করার কিছু বিষয় আছে। ’

বেশির ভাগ বাসাবাড়িতেই পানির সমস্যা দেখা দেয়। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়াসা পানি ওঠাতে সমস্যায় পড়ে। আবার যেসব বাসাবাড়ির রিজার্ভে পানি ছিল, সেটুকু বাসার পানির ট্যাংকে তোলা যায়নি। লালবাগ ১২/ছ হরমোহন শীল স্ট্রিটের বাবু মিয়া বলেন, ‘দুপুরের দিকে রিজার্ভার থেকে পানি তুলি। কিন্তু আজ ঠিক পানি তোলার আগে কারেন্ট চলে গেছে। তাই বালতিতে করে আমি পানি তুলে কিছু কাজ সারতে পারলেও ভাড়াটিয়াদের কষ্ট হয়েছে। ’

অন্ধকারে রাজধানীর রাস্তাঘাট

গতকাল বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার পরও বিদ্যুৎ না আসায় রাজধানী ঢাকার সড়কবাতিগুলোও জ্বলছিল না। ফলে সন্ধ্যার পরও সড়কগুলো অন্ধকার ছিল।

সন্ধ্যার পর কারওয়ান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের সামনের সড়ক, গ্রিন রোড, আব্দুল গণি সড়ক, খামারবাড়ি সড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সন্ধ্যার পরও অন্ধকার ছিল। অন্ধকার সড়কে শুধু হেডলাইটের আলোয় চলছিল যানবাহন।

বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক দোকানে মোমবাতি জ্বালিয়ে বেচাবিক্রি করতে দেখা গেছে। অনেকে গরমে টিকতে না পেরে বাসার বাইরে বেরিয়ে রাস্তায়, ফুটপাতে নেমে আসে। কোনো কোনো গলিতে ঘুটঘুটে অন্ধকার। সেখানে মুঠোফোনের বাতি জ্বালিয়ে চলাচল করে অনেকে।

পূজামণ্ডপে ছিল বাড়তি সতর্কতা

সন্ধ্যার পরও বিদ্যুত্হীন থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর সব পূজামণ্ডপে বাড়তি সতর্কতা জারি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীর যেসব পূজামণ্ডপে জেনারেটর নেই সেখানে সন্ধ্যার আগেই জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়। পূজামণ্ডপ মনিটরিংয়ের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থাও ছিল। এ ছাড়া মন্দির এলাকায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি বাড়াতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছে ডিএমপি।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুতের সমস্যা হয়েছে। সেটা স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে জেনে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডিজেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড়

জেনারেটর চালাতে ডিজেলের জন্য ছোটাছুটি শুরু করে মানুষ। ফিলিং স্টেশনে লম্বা লাইন লেগে যায়। ড্রামসহ নানা ধরনের পাত্র নিয়ে ফিলিং স্টেশনে হাজির হয় মানুষ। বিদ্যুৎ আসতে যতই দেরি হচ্ছিল ততই দীর্ঘ হচ্ছিল ডিজেলের লাইন।

বিকেলে রাজধানীর আসাদগেট এলাকার তালুকদার ফিলিং স্টেশনে ডিজেল নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাঁরা ডিজেল পেয়েছেন।

তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. খালিদ বলেন, ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। বিকেল ৩টা থেকে গ্রাহকদের চাপ বাড়তে শুরু করে।

মোমবাতির সংকট

সন্ধ্যা নামার পর মোমবাতির চাহিদা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন এলাকায় মোমবাতির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর রামপুরা, দক্ষিণ কুড়িল, সেগুনবাগিচা এলাকার দোকানগুলোতে যারাই আসছে তারা মোমবাতির খোঁজ করে। কোনো কোনো দোকানে মিললেও বেশির ভাগ দোকানে সন্ধ্যায় মোমবাতি ছিল না। ১০ টাকার মোমবাতি ৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বিক্রেতারদের বিরুদ্ধে।

সিয়াম সামি নামের একজন বলেন, ‘তিন-চারটি দোকান ঘুরে মোমবাতি পাইনি। শেষে একটি দোকানে মোমবাতি পেয়েছি। তা-ও দোকানি দুটির বেশি দেননি। ’

সেগুনবাগিচার মুদি দোকানি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এখন স্বাভাবিক সময়ে খুব বেশি মোমবাতি বিক্রি হয় না। সে জন্য রাখিও কম। কিন্তু এখন হঠাৎ চাহিদা বেড়েছে। শনিবার চার প্যাকেট মোমবাতি কিনে রেখেছিলাম। সেগুলো বিকেলেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর মোমবাতি নেই। ’

ব্যাংকিং সেবায় বিঘ্ন

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ব্যাংকের এটিএম সেবা অচল হয়ে যায়। একই সঙ্গে কিছু ব্যাংকের অনলাইন সেবা ব্যাহত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ব্যাংকের অনেক গ্রাহক। সন্ধ্যার পর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ ঘুরে কিছু বুথ বন্ধ পাওয়া যায়। ব্যাংকের এটিএম সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সব এটিএমে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়নি। আবার বিকল্প ব্যবস্থা থাকলেও তা সচল ছিল না। এমন সংকটের কারণে এখন বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে।

বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সেবায় বিঘ্ন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। দুপুর সোয়া ২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ ছিল না। বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনাসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুপুর সোয়া ২টা থেকে সোয়া বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুেসবা বন্ধ ছিল। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিলম্ব ফ্লাইটগুলোর শিডিউল স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন দিন সময় লাগবে। তবে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট বিলম্বে ছাড়েনি।

কারখানায় উৎপাদন কমেছে

বিদ্যুৎ সংকটে দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। আর গতকাল এক দিনের জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ে প্রায় পাঁচ কোটি ডলারের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজিএমএই সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহ আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, এক দিনের বিদুৎ বিপর্যয়ের ফলে ৫০ মিলিয়ন ডলারের (পাঁচ কোটি ডলার) রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা প্রতিদিন ১২৫ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেন।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে বিদ্যুৎ বিভাগ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের একটি এবং তৃতীয় পক্ষের একটি কমিটি বিভ্রাটের কারণ খুঁজে বের করতে কাজ করবে। ’

গতকাল রাতেই পিজিসিবির নির্বাহী পরিচালক মো. ইয়াকুব ইলাহী চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পিজিসিবির জনসংযোগ ব্যবস্থাপক এ বি এম বদরুদ্দোজা সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা চার বিভাগের প্রায় ৫০ শতাংশই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আশা করছি, রাতের মধ্যেই পুরোপুরিভাবে স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে। তখন ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুত্হীন ছিল পুরো দেশ। ভেড়ামারায় জাতীয় গ্রিডে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংযোগস্থলের ত্রুটি থেকেই বিভ্রাটের শুরু।

২০১৭ সালের মে মাসে গ্রিড বিপর্যয়ে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ৩২টি জেলা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুিবচ্ছিন্ন ছিল। গত মাসে (সেপ্টেম্বরে) জাতীয় গ্রিডের আরেকটি সঞ্চালন লাইনের বিভ্রাটে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দেড় ঘণ্টা বিদ্যুত্হীন থাকে।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বড় ধরনের বিনিয়োগ হয় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে। কিন্তু আমাদের ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশনে কখনো বড় ধরনের বিনিয়োগ হয় না। গ্রিড লাইগুলো আধুনিকায়ন করা জরুরি। ’ তিনি বলেন, ‘বিপর্যয় এড়ানোর জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন। আমাদের গ্রিড লাইগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। গ্রিড লাইনে বিপর্যয় হওয়ার এটাও একটা কারণ হতে পারে। ’

রাজধানীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুটি বিতরণ কম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি)। রাত ৯টার পর ডিপিডিসির এমডি বিকাশ দেওয়ান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আমাদের চাহিদা এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট, পাচ্ছি ৯০০ মেগাওয়াট, যা দিয়ে আমাদের বিতরণ এলাকার ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি। আশা করছি, রাতের মধ্যেই ঘাটতি আরো কমে আসবে। ’

ডেসকোর এমডি কাওসার আমির আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিদ্যুৎ এলে প্রথমে রাজধানীর এয়ারপোর্ট ও উত্তরা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করি। পরে সন্ধ্যার পর লোড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অন্য বিতরণ এলাকাগুলোতে সরবরাহ শুরু করি। ’