ঢাকামঙ্গলবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অ্যাপে অশ্লীলতা ছড়িয়ে ৭৯ কোটি টাকা পাচার করেছে বিগো

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
অক্টোবর ৫, ২০২২ ১১:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘বিগো অ্যাপে’ অশ্লীলতা ছড়িয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ১০৮ কোটি টাকা আয়ের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরই মধ্যে ৭৯ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে বিগো। গত বছর বিগো টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) চীনা নাগরিক ইয়াও জিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর অর্থপাচারের অনুসন্ধান করে এসব তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

এই অভিযোগে বিগো বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক চীনা নাগরিক ইয়াও জিসহ পাঁচজনের নামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।

ত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় চীনা নাগরিক ইয়াও জি ছাড়াও চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আসামি করেছে সিআইডি।

 

অপর আসামি হলো বিগো বাংলা লিমিটেড, বিগো বাংলার কর্মী এস এম নাজমুল হক, আরিফ হোসেন, মুনসুন হোল্ডিং নামের প্রতিষ্ঠান।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিগোর এমডি ইয়াও জি অপর আসামিদের সহায়তায় ৭৯ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছেন।

গত বছরের জুন মাসে ইয়াও জিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তখন পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় অপর গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বিগো বাংলার কর্মী মোস্তাফা সাইফ রেজা, আরিফ হোসেন, এস এম নাজমুল হক ও আসমা উল হুসনা সেজুতী। তারা সবাই এখন জেলহাজতে। অশ্লীলতা ছড়িয়ে প্রতারণার ডিজিটাল মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। পাশাপাশি অর্থপাচারের অনুসন্ধানে নামে সিআইডি।

অর্থপাচার মামলার বাদী ও সিআইডির উপপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, ‘মানি লন্ডারিং মামলা করার আগে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান করতে হয়। সেই অনুসন্ধানে বিগোর অর্থপাচারের তথ্য মিলেছে। ’

সিআইডি সূত্র জানায়, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দিলেও ভার্চুয়াল ডায়মন্ড ও বিনস বিক্রির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিতে শুরু করে বিগো। এরপর শুরু হয় বিগো ও লাইকির অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ। অ্যাপে নারীদের নগ্ন উপস্থাপন করে বিভিন্ন অফার (প্রস্তাব) দিয়ে ভার্চুয়াল মুদ্রায় টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এমএফএস, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের পর সবশেষে সূর্য পে নামের পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে দেড় বছরে তারা হাতিয়ে নেয় ১০৮ কোটি টাকা। তবে এখন পর্যন্ত ৭৯ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচারের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।