ঢাকারবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার নেপথ্যে প্লাস্টিক-পলিথিন

স্টাফ রিপোর্টার | সিটিজি পোস্ট
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২২ ৩:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বর্তমানে জলাবদ্ধতা সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার অন্যতম প্রধান কারণ, অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বর্জ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েই চলছে নগরে। ফলে উদ্ভূত সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

প্লাস্টিক পলিথিন বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ ও বিরূপ প্রভাব এবং রাস্তা নির্মাণে বিকল্প ব্যবহার শীর্ষক চুয়েটের এক গবেষণা ফলাফলে এসব তথ্য উঠে আসে। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নগরীর প্রেসক্লাবে ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম শহরে অল্প বৃষ্টিতেই বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, শুলকবহর, কাতালগঞ্জ, ডিসি সড়ক, প্রবর্তক মোড়, তিন পুলের মাথা, পাঠানটুলী, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, নিমতলা, টেক্সটাইল মোড়, কাট্টলী, নয়াবাজার মোড়, রহমতগঞ্জ, কাজীর দেউড়ি, ওয়াসাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জলাবদ্ধতা হয়ে থাকে অবৈধভাবে খাল দখল, খাল ভরাট, খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা, খালের গতিপথ পরিবর্তন হওয়াসহ নানা কারণে। গবেষণায় ফলাফলে উঠে আসে, রাস্তার পাশে কিংবা শহরের প্রধান প্রধান নালা-নর্দমাগুলোতে অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যের উৎস হিসেবে গবেষকরা বলছেন, শিল্প কারখানা প্যাকেজিং, পাইপ লাইন, পাইপ ফিটিংস, পানীয় বোতল, কন্টেইনার ক্যাপ, মুদি দোকান, ব্যক্তিগত দোকান, পাইকারি দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটক আকর্ষণ রেস্তোরাঁ, ট্রেন ইত্যাদি।

এছাড়াও রয়েছে, প্লাস্টিকের বোনা ব্যাগ, প্লাস্টিকের দড়ি, বাক্স, ডিটারজেন্ট প্যাকেট, খাবারের মোড়ক, উপহারের কাগজ, পলিথিন ব্যাগ, ক্যাসেট, টেপ, বাসনপত্র, ল্যাম্প, স্টেশনারি, কসমেটিক কিট, স্টাইরোফোমও অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে কয়েকটি পরামর্শ তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা। যাতে রয়েছে, প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য দূষণ প্রতিকারের জন্য জনসাধারণের মতামত সঠিকভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা, পাটের ব্যাগ ব্যবহার বৃদ্ধি করা, জনসচেতনতা তৈরি করা, প্লাস্টিক-পলিথিনের বিকল্প হিসেবে নিষ্পত্তিযোগ্য পণ্যের উৎস খোঁজা, প্লাস্টিক দ্রব্য ফেরতে পুরস্কৃত করা এবং রাস্তা নির্মাণে প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যবহার নিশ্চিত করা।

প্রায় এক বছর ধরে চলা এই গবেষণায় অংশ নেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের দুই শিক্ষার্থী পিয়াল বড়ুয়া এবং আল আমিন। যার নেতৃত্ব দেন প্রফেসর ডক্টর স্বপন কুমার পালিত।

ফলাফল উপস্থাপনকালে ইউএসটিসি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ গবেষক প্রফেসর ড. মো. ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এসএস