ঢাকাশুক্রবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চবিতে ছাত্রলীগের সিনিয়র-জুনিয়র নেত্রীদের তুচ্ছ ঘটনায় হাতাহাতি

নিউজ ডেস্ক | সিটিজি পোস্ট
আগস্ট ১২, ২০২২ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্রলীগের জুনিয়র দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে সিনিয়র দুই নেত্রীকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে এ ঘটনা ঘটে। রুমে প্রবেশে অনুমতি নিতে বলায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর অফিসে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন ছাত্রলীগের উপ স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী সিমা আরা শিমু এবং উপ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী সাজামুন নাহার ইষ্টি।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রলীগের নেত্রী। একজন হলেন ইংরেজি বিভাগের তাসফিয়া জাসারাত নোলক এবং ছাত্রলীগের উপ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। অন্য অভিযুক্ত নির্জনা ইসলাম নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের উপ কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে অভিযুক্ত তাসফিয়া জাসারাত নোলককে মাদকদ্রব্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশ থেকে রাত ১২টার দিকে হাতেনাতে ধরেন প্রক্টরিয়াল বডি। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেত্রী সাজমূল নাহার ইষ্টি ও তার  রুমমেট নির্জনা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের ২০৩ রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে নির্জনা ও ইস্টি রুমের মধ্যে ছিলো। এ সময় নোলক তাদের রুমে প্রবেশ করে। নোলকে হঠাৎ নক না করে রুমে প্রবেশ করতে বারণ করায় নির্জনা ও নোলক ইষ্টির সাথে তর্কে জড়ায়। এরপর ইষ্টি নির্জনার মা ও নোলকের বাবাকে এ  বিষয় জানালে নোলক আবার তার রুমে আসে। এবং ইষ্টির সাথে আবার তর্কে জড়ায়। এ সময় পাশের ছাত্রলীগ নেত্রী ও নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ ইং সেশনের শিক্ষার্থী  সীমা আক্তার তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করলে তাকে চড় মারে। এরপর তারা উভয়ে এক অপরকে চড়, থাপ্পড় মারতে থাকে।

এ বিষয় ভোক্তভোগী ছাত্রলীগ নেত্রী ইস্টি জানান, নোলক আমার রুমে হুটহাট করে ডুকে। এভাবে রুমে না আসতে বলায় নোলক তর্কাতর্কি শুরু করে। এ বিষয়ে আমি নির্জনার আম্মু ও নোলকের বাবাকে ফোনে জানাই।  এরপর নোলক আমার রুমে এসে গালাগালি করে। সীমা আপু তাকে থামানোর চেষ্টা করলে সে সীমা আপুকে চড় মারে। পরে হলের অন্য শিক্ষার্থীরা আমাদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নোলকের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম সোহেল বলেন, ২০৩ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী ইষ্টি ও নির্জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় নোলক তাদের রুমে যায় এবং তর্কাতর্কি করে। এক পর্যায় ইষ্টির সাথে হাতাহাতি হয়। ইষ্টি ও নির্জনার ব্যাপারে আমাদের কাছে পূর্বে কোনো অভিযোগ না থাকলেও নোলকের বিরুদ্ধে প্রক্টর অফিস আগেই অভিযোগ দিয়ে বলেছিলো যে সে আইন না মেনে অনেক রাতে পর্যন্ত বাইরে থাকে এবং এ ব্যাপারে নোলোকের বাবাকেও ইনফর্ম করেছে।

এ সময় হল প্রভোষ্ট আরো বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমরা একটা হলবুক মেইন্টেইন করি। নোলক রাত করে হলে আসে, আমরা তাকে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে আগে  সতর্ক করেছি। আজকের ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাকে হয়তো হল থেকে বের করে দেয়া হবে।

চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা যান সেখানে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।